এমন এক দেশে বসবাস করি , বাবার অধিকার নাই মেয়ের ইজ্জত রক্ষায় প্রতিবাদ করার।

0
179

এমন এক দেশে বসবাস করি বাবার অধিকার নাই মেয়ের ইজ্জত রক্ষায় প্রতিবাদ করার



মুসলিম এবং দেশের চলমান আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির একজন মেয়ে থাকলে এবং কোনো ছেলে না থাকলে মেয়ে মৃত ব্যক্তির মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। যদি একাধিক মেয়ে থাকে এবং ছেলে না থাকে মেয়েরা মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে এবং এ অংশ সব মেয়েদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে। [স্ত্রী জীবিত থাকলে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির সন্তান থাকা অবস্থায় ১/৮ অংশ (এক-অষ্টমাংশ) পাবেন এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ (এক-চতুর্থাংশ) পাবেন।] বাকি সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির ভাই বা ভাইয়ের ছেলেরা পাবেন।



অর্থাৎ, ধরুন, আপনি সারাবছর গরুর মতো খেটে সম্পত্তি করলেন। ভাইয়ের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। ভাইয়ের ছেলেদের সাথে যোজন যোজন দূরে বসবাস আপনার। আপনি যা করেছেন সবই আপনার একক পরিশ্রমের ফসল, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নয়। কিন্তু আপনার ছেলে না হয়ে আপনি এক বা একাধিক কন্যা সন্তানের জনক হলেন। এই অপরাধে (?) আপনার সম্পত্তির একটা বিরাট অংশ বের হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় আপনার পরিবারের বাইরে চলে গেল।



অর্থাৎ, ধরুন, আপনি সারাবছর গরুর মতো খেটে সম্পত্তি করলেন। ভাইয়ের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। ভাইয়ের ছেলেদের সাথে যোজন যোজন দূরে বসবাস আপনার। আপনি যা করেছেন সবই আপনার একক পরিশ্রমের ফসল, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নয়। কিন্তু আপনার ছেলে না হয়ে আপনি এক বা একাধিক কন্যা সন্তানের জনক হলেন। এই অপরাধে (?) আপনার সম্পত্তির একটা বিরাট অংশ বের হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় আপনার পরিবারের বাইরে চলে গেল।



ইসলামে আইনটি যখন করা হয় তখন সমাজে কমিউনিটিভিত্তিক জীবনব্যবস্থা চালু ছিল। সেখানে পরিবারের চেয়ে সমাজ কিংবা কমিউনিটির স্বার্থ বেশি দেখা হতো। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। এখন সব পরিবারকেন্দ্রিক। প্রতিটি পরিবার অন্য পরিবার থেকে স্বতন্ত্র। সম্পত্তি অর্জন কিংবা দেখভালের জন্য পরিবারের বাইরের সদস্যদের কোনো ভূমিকা এখন থাকে না। এ রকম সমাজব্যবস্থায় পুত্রের অবর্তমানে মৃতের নিজের কন্যাসন্তানকে বাবার পুরো সম্পত্তি প্রদান না করে তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী আত্মীয় চাচা-ফুফুদের কাছে সেই সম্পত্তি হস্তান্তর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য আইন হতে পারে না।



আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, যাদের এক বা একাধিক কন্যা সন্তান আছে কিন্তু ছেলে সন্তান হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই বা আর সন্তান নিতে চান না, তারা নিজের সম্পত্তি কিভাবে তাদের কন্যারা সম্পূর্ণ অংশই পেতে পারে তার জন্য ফাঁকফোকর বা বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, বিকল্প ব্যবস্থার অনুসন্ধান করা মানেই তো ইসলামি আইনের বিপক্ষে যাওয়া, তাই যদি করতে চান, তাহলে আইনটা পরিবর্তনের জন্য আওয়াজ তোলা হচ্ছে না কেন? দেশে ছেলে সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যা অসংখ্য, কেবল তারাই এই আইনের বিরোধিতা করলেই তো আইনটি বদলে যেতে পারে।



ইসলামে আইনটি যখন করা হয় তখন সমাজে কমিউনিটিভিত্তিক জীবনব্যবস্থা চালু ছিল। সেখানে পরিবারের চেয়ে সমাজ কিংবা কমিউনিটির স্বার্থ বেশি দেখা হতো। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। এখন সব পরিবারকেন্দ্রিক। প্রতিটি পরিবার অন্য পরিবার থেকে স্বতন্ত্র। সম্পত্তি অর্জন কিংবা দেখভালের জন্য পরিবারের বাইরের সদস্যদের কোনো ভূমিকা এখন থাকে না। এ রকম সমাজব্যবস্থায় পুত্রের অবর্তমানে মৃতের নিজের কন্যাসন্তানকে বাবার পুরো সম্পত্তি প্রদান না করে তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী আত্মীয় চাচা-ফুফুদের কাছে সেই সম্পত্তি হস্তান্তর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য আইন হতে পারে না।



পুত্রের অবর্তমানে কন্যাকে মৃত পিতার অবশিষ্ট সম্পত্তি প্রদান করে আইন প্রণয়নের ব্যাপারে বাংলাদেশ আইন কমিশন বেশ আগেই সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। কমিশনের দাবি, ইসলামি নীতির মধ্যে থেকেই এভাবে আইন প্রবর্তন করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তারা ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়কে উল্লেখ করেছে। ইন্দোনেশিয়ার আদালত ছেলে সন্তানের অনুপস্থিতিতে মেয়ে সন্তানকে মৃত পিতার উত্তরাধিকার সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ প্রদানের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন। রায়ে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, সূরা নিসার ১৭৬ নম্বর আয়াত অনুসারে নিঃসন্তান ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি জীবিত ভাই-বোনের কাছে চলে যায়। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, মৃতের সন্তান-সন্ততি না থাকলে তবেই সম্পত্তি মৃতের ভাই-বোনদের কাছে চলে যাবে। সুতরাং মৃতের সন্তান থাকলে তার ভাই-বোনেরা সেই সম্পত্তিতে অংশ পাবে না, সেটিই এ আয়াত থেকে সাব্যস্ত হয়।


নিঃসন্তান ব্যক্তি বলতে বর্তমানে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যার ছেলে সন্তান নেই; অথচ কোরআন শরিফে সন্তান বলতে পুরুষবাচক কোনো শব্দ উল্লেখ করা হয়নি। সে হিসেবে একজন মেয়ে সন্তান থাকলেও মৃতের সম্পত্তি তার ভাই-বোনদের কাছে যাবে না বলেই এ আয়াত থেকে সাব্যস্ত করা সম্ভব। সুতরাং, মৃতের ছেলে সন্তানের অবর্তমানে যে সম্পত্তি বর্তমানে মৃতের ভাই-বোন বা দূরের কোনো আত্মীয়ের কাছে চলে যাচ্ছে, তা কন্যাসন্তানের অনুকূলে প্রদান করে বিশেষ আইন করার পক্ষপাতী বাংলাদেশ আইন কমিশন।



avatar